ভালোবাসার ভিন্নতা

তুমি আমায় ভালোবাসো,আমি – ওই আকাশটাকে ভালোবাসি।

তোমার ভালো লাগে,আমার খোলা – চুলের গন্ধ।

আমার শীতের বিকালে দুষ্টু হিমেল হাওয়ার মৃদু – ছোঁয়ায় ঝরে পড়া ঘন সবুজের গায়ে হলদে রং মখা দিগভ্রান্ত   
হয়ে ভেসে আসা আহ্লাদী আমলকি পাতাদের, আলতো হাতে মুঠোয় বন্দী করে,
 গন্ধ নিতে ভীষণ ভালো লাগে।

 তুমি বল – আমার চোখে তোমার নেশা লাগে।

আমি বলি- নিঝুম দুপুরে বাড়ির ওই ছোট্ট পুকুরটার নিস্তব্ধ জলরাশির দিকে তাকালে,ভরদুপুরে আমি নেশায়- চুর হই।

 জল আয়নায় খুব সাবধানে ধীরে – ধীরে এগোতে থাকে ধূসর পোয়াতি মেঘ, নীল আকাশের বুকে। 

নিথর জলরাশি ভিতর থেকে হঠাৎ করে একটা ছোট্ট জীবন মিষ্টি চুম্বন ছুঁড়ে দেয় জল -আয়নার গায়ে।
শিহরণ লাগে জলে, ভেঙে যায় আকাশের প্রতিচ্ছবি।

 কোথা থেকে কি জানি ছোট্ট দুটি রামধনু রং মাখা পাখা মেলে উড়ে আসে মাছরাঙ্গা পাখিটা,
ছোঁ-মারে ভাঙ্গা আয়নার বুকে ততক্ষণে ছোট্ট খোলসে মাছটা ডুব দিয়েছে পুকুরের গভীরে।

একসাথে তিনটে রামধনু দেখতে পাই চোখের সামনে।

 একটা টুপ করে ডুব দিল জলে, একটা ছোট্ট দুটো ডানা মেলে উড়ে গেল সুদূর আকাশে,
 আর একটা মস্ত দুটো পাখা মেলে দাঁড়িয়ে আছে আকাশ জুড়ে।

 মাথার উপরে আকাশে শুনতে পাই পোয়াতি মেঘের গর্ভ -ব্যাথার চাপা গোঙানি।

ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামে আমি দৌড়ে ফিরে আসি ঘরে।

ঘন্টা দুয়েক বাদে বৃষ্টি থামলে উঠোনে দাঁড়িয়ে মাথার উপরের আকাশে দেখি সদ্যজাত শিশু মেঘ গুলো হামা দিচ্ছে আকাশ জুড়ে।

তুমি বলবে –  স্বপ্নে দেখা তোমার ধূসর – মেঘটা গেল কোথায় পালিয়ে?

আমি বলব – ধূসর মেঘটা “মা” হওয়ার খুশিতে আনন্দ – অশ্রু হয়ে ঝরে পড়ল আমার চোখের সামনে আমাদের বাড়ির -উঠোন জুড়ে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *